ফেলোশিপ গ্রাজুয়েশনে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে বাংলাদেশে তরুণদের অগ্রাধিকারভিত্তিক পরিকল্পনা প্রস্তাব করলেন ৪৩ তরুণ রাজনীতিক

সম্প্রতি ঢাকায় আয়োজিত ইয়ং লিডারস ফেলোশিপ প্রোগ্রামের গ্রাজুয়েশন অনুষ্ঠানে সারা বাংলাদেশ থেকে আগত ৪৩ তরুণ রাজনীতিবিদ সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে বাংলাদেশের তরুণদের প্রধান সমস্যাসমূহ সমাধানকল্পে তাঁদের সুপারিশ  প্রস্তাব করেন। এই তরুণ নেতারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত তাঁদের নিজ নিজ রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল আলম চৌধুরী নাদেল, বিএনপি’র মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ, এবং জাতীয় পার্টি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার শামিম হায়দার পাটোয়ারির কাছে তাঁদের ভাবনাগুলো তুলে ধরেন। এই বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরিতে  রাজনৈতিক দলে তরুণ নেতৃত্বের ক্ষমতায়নে তাঁদের আন্তরিক সমর্থন ব্যক্ত করেন এবং তরুণদের অগ্রাধিকারসমূহের গুরুত্ব স্বীকার করেন। গ্রাজুয়েশন অনুষ্ঠানের পূর্বে আয়োজিত একটি জাতীয় তরুণ সম্মেলনে তরুণ নেতৃবৃন্দ তাঁদের প্রস্তাবনা তৈরিতে একসাথে  কাজ করেন। তাঁদের প্রস্তাবনার উল্লেখযোগ্য দিকগুলো নিম্নরুপঃ

  • বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে রাজনীতিবিমুখতা দূরীকরণে এবং রাজনীতিতে মেধাবী তরুণদের আগ্রহী করে তুলতে রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করা।
  • তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে রাজনৈতিক দলগুলোর নীতিমালা ও কার্যক্রম গ্রহণ করা।
  • তরুণদের মধ্যে মাদকের আগ্রাসন রোধে রাজনৈতিক দলগুলোর উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

ইয়ং লিডারস ফেলোশিপ প্রোগ্রামের লক্ষ্য হল নতুন প্রজন্মের দক্ষ তরুণ রাজনৈতিক নেতা গড়ে তোলা, দলীয় নেতৃত্ব কাঠামোতে তরুণদের ভূমিকাকে শক্তিশালী করা, সফলভাবে নেতৃত্বের দক্ষতা চর্চার স্থান তৈরি করা, এবং মেধাবী বাংলাদেশী তরুণদের রাজনীতি ক্যারিয়ারে আগ্রহী করে তোলা।  ফেলোশিপের প্রতিটি ব্যাচে বাংলাদেশের তিনটি প্রধান রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, এবং জাতীয় পার্টির তরুণ নেতাদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়। এ ব্যাচটিও তার ব্যাতিক্রম ছিল না। এছাড়া,  এই প্রোগ্রামটি এমনভাবে সাজানো হয় যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ফেলোদের একসাথে কাজ করা আবশ্যক, এর ফলে বহুদলীয় সহযোগিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার চর্চা বৃদ্ধি পায়।

ফেলোশিপের অংশ হিসেবে, এই তরুণ ফেলোরা রাজনৈতিক নেতৃত্ব, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও সহনশীলতার বিভিন্ন পরিপ্রেক্ষিত নিয়ে আয়োজিত একটি চার-মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ সফলভাবে শেষ করেন। সেই সাথে তাঁরা স্থানীয় সমস্যা সমাধানে যৌথভাবে অ্যাসাইনমেন্ট সম্পন্ন করেন এবং বহুদলীয় সহযোগিতার উদাহরণ সৃষ্টি করেন। অনুষ্ঠানটি ছিল ইয়াং লিডারস ফেলোশিপ প্রোগ্রামের ১৬তম ও ১৭ তম ব্যাচের গ্রাজুয়েশন। এই অনুষ্ঠান বাংলাদেশে ইউ. এস. এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ইউএসএআইডি) এবং ইউকে’র ফরেন, কমনওয়েলথ, অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের যৌথ সহায়তায়   ও ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের (ডিআই) বাস্তবায়নে স্ট্রেনদেনিং পলিটিক্যাল ল্যান্ডস্কেপ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত হয়েছে। এই ৪৩ জন তরুণ নেতাসহ এ পর্যন্ত ৪১৭ তরুণ ফেলো গ্রাজুয়েশন অর্জন করেছেন।

গ্রাজুয়েশন অনুষ্ঠানে ইউএসএআইডি’র প্রতিনিধি স্লাভিচা রডোসেভিচ এবং ডিআই’এর ডেপুটি চিফ অব পার্টি লেজলি রিচার্ডস কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে ফেলোদের মধ্যে সনদ বিতরণ করেন। স্বাগত বক্তব্যে ডিআই’এর ডেপুটি চিফ অব পার্টি লেজলি রিচার্ডস বলেন, ‘আপনারা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব, দলীয় পরিচয়ের উর্ধে উঠে বাংলাদেশের তরুণদের সর্বজনীন অগ্রাধিকার বিষয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাধানের লক্ষ্যে আজ একসাথে কাজ করে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, সেজন্য আমি আপনাদের সাধুবাদ জানাই’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *