শিশু বিয়ের হারের দিক দিয়ে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান অন্যতম। এ দেশের ৫৯ শতাংশ মেয়ে শিশু ১৮ বছরে পা রাখার আগে, এবং ২২ শতাংশ মেয়ে শিশু ১৫ বছরের আগে শিশু বিয়ের শিকার হয়, যা শিশু অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ঝালকাঠিতে এসপিএল প্রকল্পের এডভোকেসি দলটি মেয়ে শিশুদের সাথে প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া এই অনিরাপদ ও বৈষম্যমূলক আচরণের অবসান ঘটিয়ে শিশুদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে কাজ করছে। কিছুদিন আগেও ঝালকাঠি জেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের মানুষদের কাছে শিশু বিয়ে প্রথা ছিল খুব স্বাভাবিক। কিন্তু ২০১৯ সালে, এসপিএল এর সহায়তায় সংগঠিত অ্যাডভোকেসি দলটি স্থানীয় জনগণকে শিশু বিয়ের কুফল সম্পর্কে ধীরে ধীরে সচেতন করতে থাকে। তাঁরা মানুষকে বোঝাতে সক্ষম হন, শিশু বিয়ের ফলে মেয়ে শিশুদের স্বাস্থ্য জটিলতার ঝুঁকি বাড়ে; পারিবারিক সহিংসতার হার বৃদ্ধি পায় এবং শিশুর শিক্ষা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার সুযোগ হ্রাস পায়।
সচেতনতামূলক এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে তরুণ রাজনীতিবিদ ও উদ্যমী মানুষদের সমন্বয়ে গঠিত এই অ্যাডভোকেসি দলটি এলাকায় কীভাবে শিশু বিয়ে প্রথা বন্ধ করা যায়, সে লক্ষ্যে ইউনিয়নের পরিচালনা পর্ষদের জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এবং অন্যান্য সরকারি প্রতিনিধিবৃন্দ নবগ্রাম ইউনিয়ন এবং তাদের স্কুলগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘শিশু বিয়ে মুক্ত’ ঘোষণা করেন। শুধু তাই নয়, এলাকায় কোন মেয়ে শিশুর বিয়ের ঘটনাকে কোনোভাবেই ছাড় দেয়া হবে না বলে তাঁরা প্রতিশ্রুতি দেন।
কারণ বাংলাদেশ আমার কারণ বাংলাদেশ আমার
