পটভূমি (Background)
বাংলাদেশে গত এক দশকে ইন্টারনেট ও মোবাইল প্রযুক্তির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং এর সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তি-সহায়ক জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার (TFGBV) ঘটনাও ক্রমাগত বাড়ছে। “সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬” প্রণয়নের প্রেক্ষাপটে Multiparty Advocacy Forum (MAF) খসড়া আইনটি পর্যালোচনা করে দেখেছে যে, বিদ্যমান খসড়ায় সাধারণ সাইবার অপরাধ মোকাবিলার কাঠামো থাকলেও TFGBV-এর বহুমাত্রিক ও লিঙ্গভিত্তিক প্রকৃতি প্রতিফলিত করার মতো সুনির্দিষ্ট, সমন্বিত ও ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক বিধান যথেষ্ট নয়।
এখানে ধারাভিত্তিকভাবে বিদ্যমান আইন, তার ঘাটতি এবং সংশোধনী সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে চূড়ান্ত আইনটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং বাংলাদেশের বাস্তব প্রেক্ষাপটে কার্যকর হয়।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড (International Standards)
বাংলাদেশ ১৯৮৪ সালে জাতিসংঘের নারীর প্রতি সকল ধরনের বৈষম্য বিলোপ সনদ (CEDAW)-এ অনুস্বাক্ষর করেছে। CEDAW কমিটির ২০১৭ সালের সাধারণ সুপারিশ নং ৩৫ প্রযুক্তি-সহায়ক জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতাকে নারীর প্রতি বৈষম্য ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের একটি রূপ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং রাষ্ট্রগুলোকে এই ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধ, তদন্ত ও প্রতিকারের জন্য আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
এছাড়া টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) ৫.২ নারী ও কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে সকল প্রকার সহিংসতা দূরীকরণের অঙ্গীকার করে, এবং জাতিসংঘ নারী সংস্থার নির্দেশিকা কার্যকর আইনি কাঠামোর জন্য সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা, ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক পদ্ধতি, প্ল্যাটফর্মের দায়বদ্ধতা, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতাকে অপরিহার্য উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করে।
নিম্নোক্ত সুপারিশগুলো বিশেষত সমন্বিত সংজ্ঞা প্রণয়ন, সম্মতির স্তরভিত্তিক ব্যাখ্যা, সেক্সটরশন ও ডিপফেক অপরাধ পৃথকীকরণ, ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক তদন্ত পদ্ধতি এবং প্ল্যাটফর্মের দায়বদ্ধতা—মূলত এসব আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের মূলনীতিগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বাংলাদেশে এর গুরুত্ব (Relevance in Bangladesh)
বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহার বাড়লেও তা নারীদের জন্য সমান নিরাপদ নয়; ২০২৪ সালের জাতীয় Violence Against Women Survey (BBS ও UNFPA) বলছে প্রযুক্তি ব্যবহারকারী নারীদের আট শতাংশ জীবনে কোনো না কোনো সময় TFGBV-এর শিকার হয়েছেন, আর ২০-২৪ বছর বয়সীদের মধ্যে এই হার ১৬ শতাংশ। Bangla Tribune-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশের নারী সাইবার সাপোর্ট ইউনিটে ২০২৪ সালের মে পর্যন্ত জমা পড়া ৬০,৮০৮টি অভিযোগের মধ্যে ৪১% ডক্সিং, ১৮% অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং ও ১৭% ব্ল্যাকমেইল। ডিসমিসল্যাবের একাধিক পৃথক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বাংলাদেশে নারী রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক ও অ্যাক্টিভিস্টরা অনলাইনে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, শারীরিক গঠন নিয়ে কটূক্তি ও ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। এই ধরনের অনলাইন সহিংসতার বিরুদ্ধে বিচার না পাওয়ার সংস্কৃতি অনেক নারীকে প্রতিকার চাওয়া থেকে নিরুৎসাহিত করেছে, আর যারা প্রতিকার চান তারাও প্রায়ই পাল্টা আক্রমণের শিকার হন। এর প্রভাব শুধু অনলাইনে থেমে নেই। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় বহু নারীর ছবি বিকৃত করে ছড়ানো হয় এবং হুমকির কারণে অনেকে প্রকাশ্য জীবন থেকে সরে যান। অনেকে ভয়ে ফোন ব্যবহারই বন্ধ করে দেন, যা উদ্বেগ ও মানসিক অসুস্থতা ডেকে আনে। আর্থিকভাবেও এর মূল্য বিশাল—শুধু ডিজিটাল জগৎ থেকে বাদ পড়ার কারণেই উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতির প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে গত এক দশকে, কারণ অনেক নারী পেশাগতভাবে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে দেন, ফলে ক্যারিয়ার, ব্যবসা বা শিক্ষার সুযোগ হাতছাড়া হয়। এভাবে ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা নারীদের ধীরে ধীরে ডিজিটাল জগৎ থেকে দুরে সরিয়ে দিয়েছে, এর ফলে তারা আয়, শিক্ষা ও নেতৃত্বের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এছাড়া, বিচারের প্রতি আস্থাও কম, আর এর ফল জীবন, স্বাস্থ্য, রাজনীতি ও অর্থনীতি সব জায়গায় পড়ছে। ফলে একটি স্পষ্ট, সমন্বিত ও ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক আইনি সংস্কার দরকার, যা দ্রুত বিচার দেবে, নতুন প্রযুক্তির (যেমন ডিপফেক) সাথে তাল মেলাবে, আর নারীদের বিশেষত রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক ও অ্যাক্টিভিস্টদের নির্ভয়ে ডিজিটাল জগতে থাকতে সাহায্য করবে।
সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৬: ধারা বিশ্লেষণ এবং সুপারিশমালা
১. ধারা: ২ (TFGBV-এর সংজ্ঞা)
বিদ্যমান ঘাটতি (Gap)
বর্তমান আইনে TFGBV-এর কোনো সমন্বিত সংজ্ঞা নেই। ফলে অনলাইন যৌন হয়রানি, সাইবারফ্ল্যাশিং, সেক্সটরশন, রিভেঞ্জ পর্ন, ডক্সিং, ডিজিটাল নজরদারি, পরিচয় জালিয়াতি, অনলাইন হুমকি এবং অন্যান্য ডিজিটাল সহিংসতার ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্নভাবে বিবেচিত হয়। এর ফলে আইন প্রয়োগে অসঙ্গতি সৃষ্টি হতে পারে এবং প্রযুক্তি সহায়ক জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার বহুমাত্রিক প্রকৃতি যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয় না।
সুপারিশ (Recommendation)
ধারা ২-এ একটি নতুন উপধারা সংযোজন করে নিম্নরূপ সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে:
“প্রযুক্তি-সহায়ক জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা (Technology-Facilitated Gender-Based Violence বা TFGBV)” বলতে ডিজিটাল, অনলাইন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক মাধ্যম ব্যবহার করে সংঘটিত, সহায়তাপ্রাপ্ত, সম্প্রসারিত বা তীব্রতর হওয়া এমন কোনো আচরণ, কার্যকলাপ বা হুমকিকে বোঝাবে, যা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রতি তাদের লিঙ্গ, লিঙ্গ পরিচয়, লিঙ্গ প্রকাশ, যৌন অভিমুখিতা বা সমাজে বিদ্যমান জেন্ডারভিত্তিক বৈষম্যের কারণে পরিচালিত হয় এবং যার ফলে শারীরিক, যৌন, মানসিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, সুনামগত বা আর্থিক ক্ষতি, ভীতি, বঞ্চনা, নিয়ন্ত্রণ বা অধিকার হরণের ঝুঁকি সৃষ্টি হয়।
এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে, তবে এতে সীমাবদ্ধ থাকবে না: অনলাইন যৌন হয়রানি, সাইবারফ্ল্যাশিং, সেক্সটরশন, রিভেঞ্জ পর্ন, সম্মতি ব্যতীত অন্তরঙ্গ তথ্য বা ছবি প্রচার, ডক্সিং, সাইবারস্টকিং, ডিজিটাল নজরদারি, ডিপফেক ও কৃত্রিমভাবে তৈরি বা সম্পাদিত যৌন বা অপমানজনক কনটেন্ট প্রচার, অনলাইন হুমকি, ঘৃণামূলক প্রচারণা, পরিচয় অপব্যবহার এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করে সংঘটিত অন্য যেকোনো জেন্ডারভিত্তিক ক্ষতিকর আচরণ।
২. ধারা: ২ (সম্মতির সংজ্ঞা)
বিদ্যমান ঘাটতি (Gap)
ছবি বা ভিডিও ধারণ, সংরক্ষণ ও প্রকাশের সম্মতির মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট নয়। ফলে কোনো ব্যক্তি একটি ছবি বা ভিডিও ধারণের অনুমতি দিলেও সেটি পরবর্তীতে প্রকাশ বা প্রচারের অনুমতি হিসেবে ভুলভাবে ব্যবহার করা হতে পারে।
সুপারিশ (Recommendation)
ধারা ২-এ “সম্মতি”-এর সংজ্ঞা সংশোধন করে নিম্নরূপ সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে:
“সম্মতি” বলতে স্বাধীন, সুনির্দিষ্ট, অবহিত, স্বেচ্ছায় প্রদত্ত এবং যে কোনো সময় প্রত্যাহারযোগ্য সম্মতিকে বোঝাবে।
কোনো ছবি, ভিডিও, অডিও বা অন্য কোনো ডিজিটাল উপাদান ধারণ, সৃষ্টি বা সংরক্ষণের জন্য প্রদত্ত সম্মতি, উক্ত উপাদান প্রকাশ, প্রচার, পুনঃপ্রচার, শেয়ার বা তৃতীয় পক্ষের নিকট সরবরাহের সম্মতি হিসেবে গণ্য হবে না।
নীরবতা, পূর্ববর্তী সম্পর্ক, পূর্বে প্রদত্ত সম্মতি বা চাপ, প্রতারণা, ভয়ভীতি অথবা ক্ষমতার অসম অবস্থার মধ্যে প্রদত্ত সম্মতি বৈধ সম্মতি হিসেবে বিবেচিত হবে না।
৩. ধারা: ২৫ (প্রযুক্তি-সহায়ক যৌন হয়রানি)
বিদ্যমান ঘাটতি (Gap)
যৌন হয়রানি, ব্ল্যাকমেইল ও ক্ষতিকর কনটেন্ট একই বিধানে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় অনলাইন যৌন হয়রানির নির্দিষ্ট উপাদানগুলো অস্পষ্ট রয়ে গেছে। এতে আইন প্রয়োগে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হতে পারে।
সুপারিশ (Recommendation)
ধারা ২৫-এ “প্রযুক্তি-সহায়ক যৌন হয়রানি” নামে একটি পৃথক উপধারা সংযোজন করা যেতে পারে, যেখানে উল্লেখ থাকবে:
কোনো ব্যক্তি যদি ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক মাধ্যম ব্যবহার করে অন্য ব্যক্তির প্রতি অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন বার্তা, যৌন সুবিধার অনুরোধ, যৌন প্রকৃতির মন্তব্য, যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ যোগাযোগ, যৌন হুমকি অথবা পুনঃপুন অনলাইন যোগাযোগ করে, যার ফলে ভুক্তভোগীর মর্যাদা, নিরাপত্তা বা মানসিক সুস্থতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে তা প্রযুক্তি-সহায়িত যৌন হয়রানি হিসেবে গণ্য হবে।
এমন আচরণ সংঘটন দণ্ডনীয় অপরাধ বলে বিবেচিত হবে।
৪. ধারা: ২৫ (অ-সম্মতিমূলক অন্তরঙ্গ কনটেন্ট)
বিদ্যমান ঘাটতি (Gap)
“অশ্লীল” ও “ক্ষতিকর” শব্দগুলো বিষয়ভিত্তিক ও ব্যাখ্যানির্ভর। অপরাধের মূল উপাদান হিসেবে সম্মতির অনুপস্থিতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। ফলে ভুক্তভোগী-কেন্দ্রিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে দুর্বলতা রয়েছে।
সুপারিশ (Recommendation)
ধারা ২৫-এ “অ-সম্মতিমূলক অন্তরঙ্গ উপাদান (Non-Consensual Intimate Content)” নামে একটি নতুন উপধারা সংযোজন করা যেতে পারে:
কোনো ব্যক্তির সম্মতি ব্যতীত তার অন্তরঙ্গ, যৌন বা ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও, অডিও অথবা অনুরূপ ডিজিটাল উপাদান ধারণ, সৃষ্টি, সম্পাদনা, সংরক্ষণ, প্রকাশ, প্রচার, বিক্রয়, বিতরণ বা পুনঃপ্রচার করা অপরাধ বলে গণ্য হবে।
ভুক্তভোগী পূর্বে উক্ত উপাদান সৃষ্টিতে বা ধারণে সম্মতি প্রদান করলেও, প্রকাশ বা প্রচারের জন্য পৃথক সম্মতি ব্যতীত কোনো ব্যবহার আইনসঙ্গত বলে বিবেচিত হবে না।
৫. ধারা: ২৫ (Sextortion)
বিদ্যমান ঘাটতি (Gap)
অন্তরঙ্গ ছবি, ভিডিও বা তথ্য প্রকাশের হুমকি ব্যবহার করে অর্থ, যৌন সুবিধা, সেবা বা অন্য কোনো সুবিধা আদায়ের প্রচেষ্টাকে পৃথক অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়নি। ফলে TFGBV-এর অন্যতম গুরুতর রূপ আইনে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয় না।
সুপারিশ (Recommendation)
ধারা ২৫-এ “সেক্সটরশন (Sextortion)” নামে একটি পৃথক উপধারা সংযোজন করা যেতে পারে:
কোনো ব্যক্তি যদি অন্য ব্যক্তির অন্তরঙ্গ ছবি, ভিডিও, অডিও, ব্যক্তিগত তথ্য বা যৌন প্রকৃতির উপাদান প্রকাশ, প্রচার বা প্রকাশের হুমকি দিয়ে অর্থ, সম্পদ, সেবা, যৌন সুবিধা অথবা অন্য কোনো সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করে বা আদায় করে, তবে তা “সেক্সটরশন” হিসেবে গণ্য হবে।
হুমকি বাস্তবায়িত হোক বা না হোক, কেবলমাত্র এ ধরনের চাপ, জবরদস্তি বা সুবিধা আদায়ের প্রচেষ্টাই অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
৬. ধারা: ২৫ (Cyberflashing)
বিদ্যমান ঘাটতি (Gap)
সম্মতি ছাড়া অন্তরঙ্গ বা যৌন প্রকৃতির ছবি, ভিডিও, GIF বা অন্যান্য কনটেন্ট পাঠানোকে পৃথক অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। ফলে ডিজিটাল মাধ্যমে সংঘটিত এই বিশেষ ধরনের যৌন হয়রানি যথাযথভাবে মোকাবিলা করা কঠিন হবে।
সুপারিশ (Recommendation)
ধারা ২৫-এ “সাইবারফ্ল্যাশিং (Cyberflashing)” নামে একটি পৃথক উপধারা সংযোজন করা যেতে পারে:
“সাইবারফ্ল্যাশিং” বলতে কোনো ব্যক্তির পূর্বানুমতি বা সম্মতি ব্যতীত ডিজিটাল, অনলাইন বা ইলেকট্রনিক মাধ্যম ব্যবহার করে যৌন, নগ্ন, অর্ধনগ্ন বা অন্তরঙ্গ প্রকৃতির ছবি, ভিডিও, অডিও, GIF বা অন্য কোনো কনটেন্ট প্রেরণ, প্রদর্শন বা শেয়ার করাকে বোঝাবে।
কোনো ব্যক্তি যদি অন্য ব্যক্তিকে বিব্রত করা, অপমান করা, ভয় দেখানো, যৌনভাবে হয়রানি করা বা অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন যোগাযোগ স্থাপনের উদ্দেশ্যে এ ধরনের কনটেন্ট প্রেরণ করে, তবে তা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
কনটেন্টটি সরাসরি বার্তা, ব্লুটুথ, এয়ারড্রপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মেসেজিং সেবা বা অন্য কোনো ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে পাঠানো হোক না কেন, তা এই ধারার আওতাভুক্ত হবে।
৭. ধারা: ২৫ (AI-Generated ও Deepfake Abuse)
বিদ্যমান ঘাটতি (Gap)
ধারা ২৫-এ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি কিছু ক্ষতিকর কনটেন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ থাকলেও, AI-generated, morphed, edited বা deepfake অন্তরঙ্গ কনটেন্ট তৈরি ও প্রচারের বিষয়ে পৃথক বিধান নেই।
সুপারিশ (Recommendation)
ধারা ২৫-এ“AI-Generated and Deepfake Abuse” নামে একটি নতুন উপধারা সংযোজন করা যেতে পারে:
কোনো বাস্তব ও শনাক্তযোগ্য ব্যক্তির ছবি, ভিডিও, কণ্ঠস্বর বা পরিচয় ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং বা অন্য কোনো প্রযুক্তির মাধ্যমে যৌন, অন্তরঙ্গ, অপমানজনক বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি, সম্পাদনা, পরিবর্তন, প্রকাশ, বিতরণ বা পুনঃপ্রচার করা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
কোনো ব্যক্তি যদি জেনেশুনে এ ধরনের ডিপফেক বা AI-সৃষ্ট কনটেন্ট প্রচার, বিতরণ বা পুনঃপ্রচার করে এবং জানে বা জানা উচিত ছিল যে উক্ত কনটেন্ট ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর, তবে সেও অপরাধের জন্য দায়ী হবে।
ভুক্তভোগীর সম্মতি ব্যতীত তার পরিচয় ব্যবহার করে AI-সৃষ্ট যৌন বা অন্তরঙ্গ কনটেন্ট তৈরি করা নিজেই একটি স্বতন্ত্র অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে, এমনকি উক্ত কনটেন্ট বাস্তব ঘটনার প্রতিফলন না হলেও।
৮. ধারা: ২৫ক (নতুন ধারা) Cyberstalking
বিদ্যমান ঘাটতি (Gap)
বর্তমান সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এ পুনঃপুন ডিজিটাল অনুসরণ, অনলাইন নজরদারি, লোকেশন ট্র্যাকিং, অ্যাকাউন্ট পর্যবেক্ষণ বা একাধিক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে হয়রানির বিরুদ্ধে কোনো পৃথক ও সুনির্দিষ্ট ধারা নেই।
সুপারিশ (Recommendation)
আইনে একটি নতুন ধারা ২৫ক (Cyberstalking) সংযোজন করা যেতে পারে:
“সাইবারস্টকিং” বলতে কোনো ব্যক্তির সম্মতি ব্যতীত ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক মাধ্যম ব্যবহার করে পুনঃপুন যোগাযোগ, অনুসরণ, নজরদারি, লোকেশন ট্র্যাকিং, ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ, অনলাইন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ অথবা ভয়ভীতি, উদ্বেগ বা নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে আচরণ করাকে বোঝাবে।
এর মধ্যে বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত থাকবে:
- বারবার অনাকাঙ্ক্ষিত বার্তা, কল বা যোগাযোগ;
- একাধিক বা ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে যোগাযোগ;
- স্পাইওয়্যার, ট্র্যাকিং সফটওয়্যার বা নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহার;
- ভুক্তভোগীর অবস্থান, চলাফেরা বা অনলাইন কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ;
- যোগাযোগ বন্ধ করার অনুরোধের পরও পুনঃপুন যোগাযোগ অব্যাহত রাখা।
এমন আচরণের ফলে যদি কোনো ব্যক্তির নিরাপত্তা, মানসিক স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বা দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হয়, তবে তা সাইবারস্টকিং হিসেবে গণ্য হবে এবং দণ্ডনীয় অপরাধ হবে।
৯. ধারা: ২৫খ (নতুন ধারা) Doxxing
বিদ্যমান ঘাটতি (Gap)
জেন্ডারভিত্তিক হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, সামাজিক আক্রমণ বা অনলাইন নিপীড়নের উদ্দেশ্যে কোনো ব্যক্তির ঠিকানা, ফোন নম্বর, কর্মস্থল, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, ইমেইল, পারিবারিক তথ্য বা অন্যান্য শনাক্তকারী তথ্য প্রকাশের বিরুদ্ধে TFGBV-কেন্দ্রিক সুরক্ষা নেই।
সুপারিশ (Recommendation)
আইনে একটি নতুন ধারা ২৫খ (Doxxing) সংযোজন করা যেতে পারে:
“ডক্সিং (Doxxing)” বলতে কোনো ব্যক্তির সম্মতি ব্যতীত তার ব্যক্তিগত, গোপনীয় বা শনাক্তকারী তথ্য ডিজিটাল বা অনলাইন মাধ্যমে প্রকাশ, শেয়ার, বিতরণ বা প্রচার করাকে বোঝাবে, যদি উক্ত কার্যকলাপের ফলে হয়রানি, ভয়ভীতি, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা, সামাজিক বর্জন, শারীরিক আক্রমণ বা অন্য কোনো ক্ষতির ঝুঁকি সৃষ্টি হয়।
ব্যক্তিগত শনাক্তকারী তথ্যের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে, তবে এতে সীমাবদ্ধ থাকবে না:
- বাসা বা কর্মস্থলের ঠিকানা;
- ফোন নম্বর;
- ইমেইল ঠিকানা;
- জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট বা অন্যান্য পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য;
- অবস্থান (location) সংক্রান্ত তথ্য;
- পরিবার, সন্তান বা আত্মীয়স্বজন সম্পর্কিত তথ্য; এবং
জেন্ডারভিত্তিক হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, আক্রমণকে উৎসাহিত করা বা অনলাইন নিপীড়নের উদ্দেশ্যে এ ধরনের তথ্য প্রকাশ বা প্রচার করা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
১০. ধারা: ২৫গ (নতুন ধারা) Coordinated Online Abuse
বিদ্যমান ঘাটতি (Gap)
সংগঠিত বা সমন্বিতভাবে পরিচালিত অনলাইন আক্রমণ, ব্যাপক ট্রোলিং, জেন্ডারভিত্তিক ঘৃণা প্রচারণা এবং নারীদের বা অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে জনপরিসর থেকে নীরব করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত ডিজিটাল অভিযানের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট আইনি সুরক্ষা নেই।
সুপারিশ (Recommendation)
আইনে একটি নতুন ধারা ২৫গ (Coordinated Online Abuse) সংযোজন করা যেতে পারে:
“সমন্বিত অনলাইন নিপীড়ন (Coordinated Online Abuse)” বলতে একাধিক ব্যক্তি, গোষ্ঠী, অ্যাকাউন্ট, বট বা অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অনলাইন হয়রানি, হুমকি, অপমান, ভয়ভীতি, বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার বা সামাজিকভাবে নীরব করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত কার্যক্রমকে বোঝাবে।
এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে:
- সমন্বিত ট্রোলিং ও হয়রানি;
- জেন্ডারভিত্তিক ঘৃণামূলক প্রচারণা;
- লক্ষ্যভিত্তিক অনলাইন হুমকি;
- সমন্বিতভাবে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার;
- কোনো ব্যক্তিকে সামাজিক, রাজনৈতিক বা পেশাগত কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে পরিচালিত ডিজিটাল ক্যাম্পেইন।
এ ধরনের সমন্বিত কার্যক্রমকে গুরুতর TFGBV অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তি বা সংগঠক আইনের আওতায় দায়ী হবে।
১১. ধারা: ২৫ (Mens Rea বা অপরাধের মানসিক উপাদান)
বিদ্যমান ঘাটতি (Gap)
ধারা ২৫-এ বিভিন্ন TFGBV-সংশ্লিষ্ট আচরণের জন্য শাস্তির বিধান থাকলেও, প্রতিটি অপরাধের ক্ষেত্রে “ইচ্ছাকৃতভাবে”, “জ্ঞাতসারে” বা “সম্মতি ব্যতিরেকে” সংঘটনের মানদণ্ড সমভাবে ও সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়নি।
সুপারিশ (Recommendation)
ধারা ২৫ সংশোধন করে নিম্নলিখিত সাধারণ নীতিমালা অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে:
এই ধারার অধীন কোনো অপরাধ প্রমাণের ক্ষেত্রে, যেখানে প্রাসঙ্গিক, “ইচ্ছাকৃতভাবে (intentionally)”, “জ্ঞাতসারে (knowingly)” অথবা “সম্মতি ব্যতিরেকে (without consent)” কার্য সম্পাদনের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে।
কোনো ব্যক্তি যদি জেনেশুনে এবং যুক্তিসঙ্গতভাবে জানার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অ-সম্মতিমূলক অন্তরঙ্গ কনটেন্ট, ডিপফেক, সেক্সটরশনমূলক উপাদান বা অন্যান্য TFGBV কনটেন্ট সংরক্ষণ, প্রচার, পুনঃপ্রচার বা বিতরণ করে, তবে তাকে অপরাধের জন্য দায়ী করা যাবে।
তবে দুর্ঘটনাবশত কোনো কনটেন্ট গ্রহণ করা, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাময়িক সংরক্ষণ হওয়া অথবা অপরাধমূলক উদ্দেশ্য ছাড়া কনটেন্টের অনিচ্ছাকৃত প্রাপ্তি এই ধারার অধীনে অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না।
কোনো ব্যক্তি আপত্তি, নোটিশ বা অভিযোগ পাওয়ার পরও যদি জেনেশুনে ক্ষতিকর কনটেন্ট প্রচার বা পুনঃপ্রচার অব্যাহত রাখে, তবে তা অপরাধ সংঘটনের প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হবে।
১২. ধারা: ২৫ (অ-সম্মতিমূলক অন্তরঙ্গ কনটেন্টের পুনঃপ্রচার / Forwarding)
বিদ্যমান ঘাটতি (Gap)
ধারা ২৫-এ ক্ষতিকর, অশ্লীল বা অন্তরঙ্গ কনটেন্ট প্রকাশের জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে। তবে প্রথমবার প্রকাশকারীর বাইরে পরবর্তীতে জেনেশুনে কনটেন্ট পুনঃপ্রচারকারী ব্যক্তির দায়বদ্ধতা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়নি।
সুপারিশ (Recommendation)
ধারা ২৫-এ একটি নতুন উপধারা সংযোজন করে উল্লেখ করা যেতে পারে:
কোনো ব্যক্তি যদি জেনেশুনে অথবা যুক্তিসঙ্গতভাবে জানা সত্ত্বেও যে কোনো অন্তরঙ্গ ছবি, ভিডিও, অডিও বা ডিজিটাল উপাদান ভুক্তভোগীর সম্মতি ব্যতীত প্রকাশিত হয়েছে, তা ডাউনলোড, সংরক্ষণ, ফরওয়ার্ড, রিপোস্ট, বিতরণ, মিরর, পুনঃপ্রচার বা অন্য কোনো উপায়ে ছড়িয়ে দেয়, তবে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
পুনঃপ্রচারকারীর দায় প্রথম প্রকাশকারীর দায় থেকে স্বতন্ত্র হবে এবং পুনঃপ্রচারজনিত ক্ষতির জন্য তিনি পৃথকভাবে জবাবদিহি করবেন।
১৩. ধারা: ২৫ (বৈধ ব্যতিক্রম)
বিদ্যমান ঘাটতি (Gap)
কোন পরিস্থিতিতে কনটেন্ট ব্যবহার বৈধ হবে এবং কোন পরিস্থিতিতে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে তার সীমারেখা অস্পষ্ট। ফলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, চিকিৎসক, গবেষক বা সাংবাদিকদের বৈধ কার্যক্রমও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।
সুপারিশ (Recommendation)
ধারা ২৫-এ একটি ব্যতিক্রম সংক্রান্ত উপধারা সংযোজন করা যেতে পারে:
এই ধারার কোনো বিধান নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না, যদি তা কঠোর প্রয়োজনীয়তা, গোপনীয়তা ও তথ্য-ন্যূনতমকরণ (data minimisation) নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়:
- আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তদন্ত;
- আদালতের কার্যক্রম;
- চিকিৎসা বা মনোসামাজিক সেবা প্রদান;
- প্রমাণ সংরক্ষণ;
- অনুমোদিত গবেষণা;
- জনস্বার্থে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা।
তবে এসব ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর পরিচয় ও গোপনীয়তা সর্বোচ্চভাবে সুরক্ষিত রাখতে হবে।
১৪. ধারা: ৮ / নতুন ধারা ২৫চ (জরুরি কনটেন্ট অপসারণ বা Takedown)
বিদ্যমান ঘাটতি (Gap)
ভুক্তভোগীর আবেদনের ভিত্তিতে জরুরি ভিত্তিতে কনটেন্ট অপসারণ, সংরক্ষণ, অ্যাকাউন্ট সীমিতকরণ বা ডি-ইনডেক্সিংয়ের ব্যবস্থা নেই। ফলে ক্ষতিকর কনটেন্ট দীর্ঘ সময় অনলাইনে থেকে অতিরিক্ত ক্ষতি করতে পারে।
সুপারিশ (Recommendation)
নতুন ধারা ২৫চ সংযোজন করা যেতে পারে:
TFGBV-সংক্রান্ত অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা প্ল্যাটফর্ম জরুরি ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে:
- কনটেন্ট অপসারণ (takedown);
- ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ;
- অ্যাকাউন্ট সীমিতকরণ;
- সার্চ ফলাফল থেকে অপসারণ (de-indexing)।
অ-সম্মতিমূলক অন্তরঙ্গ কনটেন্ট বা শিশুসংশ্লিষ্ট কনটেন্টের ক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এবং অন্যান্য TFGBV কনটেন্টের ক্ষেত্রে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।
১৫. ধারা: ৪০ (অভিযোগ দায়ের)
বিদ্যমান ঘাটতি (Gap)
ভুক্তভোগী সামাজিক, পারিবারিক বা নিরাপত্তাগত কারণে সরাসরি অভিযোগ করতে না পারলে ন্যায়বিচারের সুযোগ সীমিত হয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, ভুক্তভোগীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তৃতীয় পক্ষ অভিযোগ দায়েরের অপব্যবহারও ঘটতে পারে।
সুপারিশ (Recommendation)
ধারা ৪০ সংশোধন করে উল্লেখ করা যেতে পারে:
TFGBV-সংক্রান্ত অভিযোগ ভুক্তভোগী, তার অনুমোদিত প্রতিনিধি, আইনগত অভিভাবক, নিবন্ধিত আইনগত সহায়তা সংস্থা বা আদালত কর্তৃক অনুমোদিত ব্যক্তি দায়ের করতে পারবেন।
অভিযোগ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানো হলে ভুক্তভোগী বা তার প্রতিনিধি নির্দিষ্ট ট্রাইব্যুনাল, পর্যালোচনা কর্তৃপক্ষ বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করতে পারবেন।
অভিযোগ গ্রহণ ও নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক, গোপনীয় ও নিরাপদ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
১৬. ধারা: ৪০ক (নিরাপদ অভিযোগ ব্যবস্থা)
বিদ্যমান ঘাটতি (Gap)
বর্তমান আইনে TFGBV ভুক্তভোগীদের জন্য বিশেষভাবে নিরাপদ, সহজপ্রাপ্য, অনলাইন ও অফলাইন অভিযোগ প্রক্রিয়া এবং প্রশিক্ষিত ফোকাল কর্মকর্তার বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট বিধান নেই। Survivor-friendly অভিযোগ গ্রহণ ব্যবস্থা, অনলাইন অভিযোগ প্ল্যাটফর্ম, দূরবর্তী সাক্ষ্য প্রদান, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য প্রবেশগম্যতা (accessibility) এবং প্রশিক্ষিত কর্মকর্তা না থাকায় অনেক ভুক্তভোগী অভিযোগ করতে নিরুৎসাহিত হন।
সুপারিশ (Recommendation)
আইনে একটি নতুন ধারা ৪০ক (নিরাপদ অভিযোগ ব্যবস্থা) সংযোজন করা যেতে পারে:
TFGBV-সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণের জন্য সরকার একটি নিরাপদ, গোপনীয় ও সহজপ্রাপ্য অভিযোগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করবে।
এ ব্যবস্থার আওতায় নিম্নোক্ত বিষয়গুলো চিহ্নিত করতে হবে:
- অনলাইন ও অফলাইন উভয় মাধ্যমে অভিযোগ গ্রহণ;
- প্রশিক্ষিত নারী ও জেন্ডার-সংবেদনশীল ফোকাল কর্মকর্তা নিয়োগ;
- দূরবর্তীভাবে অভিযোগ ও সাক্ষ্য প্রদান;
- প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য প্রবেশগম্য সেবা;
- অভিযোগ গ্রহণের লিখিত বা ডিজিটাল রসিদ প্রদান;
- নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঝুঁকি মূল্যায়ন (risk assessment)
নিশ্চিত করতে হবে। অভিযোগকারীর নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও মর্যাদা সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে সংরক্ষণ করতে হবে।
১৭. ধারা: ৪০খ (পরিচয় ও গোপনীয়তার সুরক্ষা)
বিদ্যমান ঘাটতি (Gap)
সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এ ব্যক্তিগত তথ্য ও সংবেদনশীল তথ্য সুরক্ষার কিছু সাধারণ বিধান থাকলেও TFGBV ভুক্তভোগীর পরিচয়, অন্তরঙ্গ তথ্য, মামলা সংক্রান্ত নথি এবং ডিজিটাল প্রমাণের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য পৃথক ও বিস্তৃত সুরক্ষা ব্যবস্থা নেই। এর ফলে বিচারপ্রক্রিয়ার সময় বা পরে পুনরায় হয়রানি, সামাজিক কলঙ্ক এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে।
সুপারিশ (Recommendation)
আইনে একটি নতুন ধারা ৪০খ (পরিচয় ও গোপনীয়তার সুরক্ষা) সংযোজন করা যেতে পারে:
TFGBV-সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ, তদন্ত, বিচার বা আপিল প্রক্রিয়ায় ভুক্তভোগীর পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না।
ভুক্তভোগীর নাম, ছবি, ভিডিও, ঠিকানা, কর্মস্থল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যোগাযোগের তথ্য অথবা অন্য কোনো শনাক্তকারী তথ্য আদালতের অনুমতি ব্যতীত প্রকাশ, প্রচার বা পুনঃপ্রচার করা নিষিদ্ধ হবে।
আদালত প্রয়োজনে ছদ্মনাম (pseudonym) ব্যবহারের অনুমতি দিতে পারবে এবং মামলা সংক্রান্ত নথি সিলবদ্ধ (sealed record) রাখার নির্দেশ দিতে পারবে।
ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস, পুনঃপ্রচার বা অননুমোদিতভাবে প্রকাশ করা একটি স্বতন্ত্র অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
১৮. ধারা: ৪০গ (Protection Order)
বিদ্যমান ঘাটতি (Gap)
অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগের পরও অপরাধী অনলাইন যোগাযোগ, নজরদারি, কনটেন্ট পুনঃপ্রচার বা ভয়ভীতি প্রদর্শন অব্যাহত রাখতে পারে। ভুক্তভোগীকে তাৎক্ষণিক সুরক্ষা দেওয়ার জন্য কোনো কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নেই।
সুপারিশ (Recommendation)
আইনে একটি নতুন ধারা ৪০গ (Protection Order) সংযোজন করা যেতে পারে:
আদালত বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত ট্রাইব্যুনাল, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা প্রতীয়মান হলে, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তার স্বার্থে অন্তর্বর্তী বা চূড়ান্ত Protection Order প্রদান করতে পারবে।
Protection Order-এর মাধ্যমে আদালত:
- অনাকাঙ্ক্ষিত যোগাযোগ বন্ধের নির্দেশ;
- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে হয়রানি বন্ধের নির্দেশ;
- অন্তরঙ্গ কনটেন্ট পুনঃপ্রচার নিষিদ্ধকরণ;
- ডিজিটাল নজরদারি, লোকেশন ট্র্যাকিং বা অ্যাকাউন্ট মনিটরিং বন্ধের নির্দেশ;
- ভুক্তভোগীর নিকটবর্তী হওয়া বা যোগাযোগের নির্দিষ্ট মাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা
আরোপ করতে পারবে। Protection Order লঙ্ঘন করা একটি পৃথক দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
১৯. ধারা: ৩২ (Survivor-Sensitive Investigation)
বিদ্যমান ঘাটতি (Gap)
ধারা ৩২-এ তদন্তের ক্ষমতা ও পদ্ধতি সম্পর্কিত বিধান রয়েছে। তবে TFGBV মামলায় তদন্ত চলাকালে victim blaming, অপ্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ, বারবার সাক্ষ্য গ্রহণ এবং ব্যক্তিগত বা অপ্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পুনরায় মানসিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন।
সুপারিশ (Recommendation)
ধারা ৩২ সংশোধন করে নিম্নলিখিত বিধান সংযোজন করা যেতে পারে:
TFGBV-সংক্রান্ত তদন্ত ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক, জেন্ডার-সংবেদনশীল এবং trauma-informed পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে।
তদন্তের সময়:
- একই ঘটনার বিষয়ে অপ্রয়োজনীয়ভাবে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করা যাবে না;
- ভুক্তভোগীর মর্যাদা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে;
- অপ্রাসঙ্গিক যৌন ইতিহাস, ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা চরিত্র সম্পর্কিত প্রশ্ন করা যাবে না;
- শুধুমাত্র তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা যাবে;
- নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর জন্য উপযুক্ত সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের TFGBV, ডিজিটাল প্রমাণ এবং survivor-centred investigation বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হবে।
২০. ধারা: ৩২/৩৪ (ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ)
বিদ্যমান ঘাটতি (Gap)
সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ধারা ৩২-এর অধীনে তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতা এবং ধারা ৩৪-এর অধীনে ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ, জব্দ ও পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে TFGBV-সংক্রান্ত কনটেন্ট দ্রুত সংরক্ষণ, মুছে যাওয়ার পূর্বে প্রমাণ সুরক্ষা এবং প্ল্যাটফর্মভিত্তিক evidence preservation-এর জন্য বিস্তারিত বাধ্যবাধকতা নেই।
সুপারিশ (Recommendation)
ধারা ৩২ ও ৩৪ সংশোধন করে নিম্নলিখিত বিধান সংযুক্ত করা যেতে পারে:
TFGBV-সংক্রান্ত অভিযোগ প্রাপ্তির পর তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণের জন্য অবিলম্বে Preservation Order জারি করতে পারবে।
ডিজিটাল সেবা প্রদানকারী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মেসেজিং সেবা এবং হোস্টিং প্ল্যাটফর্মসমূহ অভিযোগ প্রাপ্তির পর নির্ধারিত সময়ের জন্য সংশ্লিষ্ট তথ্য, মেটাডেটা, লগ, অ্যাকাউন্ট তথ্য এবং কনটেন্ট সংরক্ষণ করতে বাধ্য থাকবে।
কোনো কনটেন্ট অপসারণ করা হলেও তদন্তের স্বার্থে তার ফরেনসিক কপি সংরক্ষণ করতে হবে।
ডিজিটাল প্রমাণের Chain of Custody নিশ্চিত করতে হবে এবং আদালতে গ্রহণযোগ্যতার জন্য নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ করতে হবে।
২১. ধারা: ৩৪-৩৫ (ডিভাইস জব্দ ও ফরেনসিক পরীক্ষা)
বিদ্যমান ঘাটতি (Gap)
TFGBV মামলায় তদন্তের সময় সম্পূর্ণ ডিভাইস জব্দ করা হলে ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত তথ্য, চিকিৎসা নথি, ব্যক্তিগত যোগাযোগ এবং সম্পর্কহীন সংবেদনশীল তথ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। বর্তমান আইনে ডেটা মিনিমাইজেশন বা targeted extraction-এর বাধ্যবাধকতা স্পষ্ট নয়।
সুপারিশ (Recommendation)
ধারা ৩৪ ও ৩৫ সংশোধন করে নিম্নলিখিত বিধান যুক্ত করা যেতে পারে:
তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় না হলে সম্পূর্ণ ডিভাইস জব্দ করা যাবে না।
যেখানে সম্ভব, সম্পূর্ণ ডিভাইস জব্দের পরিবর্তে ফরেনসিক ইমেজ, targeted forensic copy অথবা নির্দিষ্ট ডেটা এক্সট্রাকশন ব্যবহার করতে হবে।
তদন্তের সঙ্গে সম্পর্কহীন ব্যক্তিগত তথ্য, চিকিৎসা তথ্য, ব্যক্তিগত যোগাযোগ বা সংবেদনশীল তথ্য পর্যালোচনা, কপি বা প্রকাশ করা যাবে না।
ভুক্তভোগীর ডিভাইস পরীক্ষা করার ক্ষেত্রে তার গোপনীয়তা, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
তদন্ত সমাপ্তির পর অপ্রয়োজনীয় তথ্য নিরাপদভাবে ধ্বংস বা মুছে ফেলতে হবে এবং ডিভাইস যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যে ফেরত দিতে হবে।
২২. ধারা: ৪০ঙ (আদালতে ভুক্তভোগীর সুরক্ষা)
বিদ্যমান ঘাটতি (Gap)
TFGBV মামলায় বিচার চলাকালে ভুক্তভোগীকে প্রকাশ্যে সাক্ষ্য দিতে, ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করতে বা অপরাধীর মুখোমুখি হতে হতে পারে। ফলে পুনরায় মানসিক আঘাত, সামাজিক কলঙ্ক এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সুপারিশ (Recommendation)
আইনে একটি নতুন ধারা ৪০ঙ (আদালতে ভুক্তভোগীর সুরক্ষা) সংযোজন করা যেতে পারে:
TFGBV-সংক্রান্ত মামলায় আদালত ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও গোপনীয়তা রক্ষার্থে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।
এ ব্যবস্থার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে:
- ইন-ক্যামেরা (in-camera) শুনানি;
- ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে সাক্ষ্য গ্রহণ;
- পর্দা বা অন্যান্য সুরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সাক্ষ্য গ্রহণ;
- ভুক্তভোগীর পরিচয় গোপন রাখা;
- ব্যক্তিগত ও অন্তরঙ্গ তথ্য প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা;
- অপ্রাসঙ্গিক যৌন ইতিহাস বা চরিত্র সম্পর্কিত প্রশ্ন নিষিদ্ধকরণ।
আদালত নিশ্চিত করবে যে বিচার প্রক্রিয়ায় ভুক্তভোগী পুনরায় হয়রানি, অপমান বা মানসিক ক্ষতির সম্মুখীন না হন।
২৩. ধারা: ৪০চ (ক্ষতিপূরণ ও প্রতিকার)
বিদ্যমান ঘাটতি (Gap)
সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এ অপরাধের জন্য দণ্ডের বিধান রয়েছে, তবে TFGBV-এর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির আর্থিক, মানসিক বা সুনামগত ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদানের পৃথক কাঠামো নেই।
সুপারিশ (Recommendation)
আইনে একটি নতুন ধারা ৪০চ (ক্ষতিপূরণ ও প্রতিকার) সংযোজন করা যেতে পারে:
TFGBV অপরাধে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিকে আদালত ভুক্তভোগীকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারবে।
ক্ষতিপূরণের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে:
- চিকিৎসা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ব্যয়;
- আয় বা কর্মসংস্থানের ক্ষতি;
- আইনগত সহায়তার ব্যয়;
- ডিজিটাল নিরাপত্তা ও অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার ব্যয়;
- সম্মানহানি ও মানসিক কষ্টের জন্য ক্ষতিপূরণ;
- অন্যান্য প্রমাণিত আর্থিক ক্ষতি।
আদালত প্রয়োজনে কনটেন্ট অপসারণ, ক্ষমা প্রকাশ, সংশোধনী প্রকাশ অথবা অন্যান্য উপযুক্ত প্রতিকারমূলক আদেশও দিতে পারবে।
২৪. ধারা: ৪০ছ (পুনর্বাসন ও মনোসামাজিক সহায়তা)
বিদ্যমান ঘাটতি (Gap)
বর্তমান আইনে TFGBV ভুক্তভোগীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন, কাউন্সেলিং, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা বা সামাজিক পুনরুদ্ধার সহায়তা সংক্রান্ত নির্দিষ্ট কোনো বিধান নেই।
সুপারিশ (Recommendation)
আইনে একটি নতুন ধারা ৪০ছ (পুনর্বাসন ও মনোসামাজিক সহায়তা) সংযোজন করা যেতে পারে:
সরকার TFGBV ভুক্তভোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় পুনর্বাসন ও সহায়তা কর্মসূচি প্রতিষ্ঠা করবে।
এ কর্মসূচির আওতায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে:
- মনোসামাজিক কাউন্সেলিং;
- মানসিক স্বাস্থ্যসেবা;
- আইনি সহায়তা;
- ডিজিটাল নিরাপত্তা সহায়তা;
- শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে পুনঃঅংশগ্রহণ সহায়তা;
- জরুরি আশ্রয় ও সুরক্ষা সেবা (প্রয়োজনে);
সংশ্লিষ্ট সকল সেবা ভুক্তভোগীর সম্মতি, গোপনীয়তা ও মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধাশীলভাবে প্রদান করতে হবে।
২৫. নতুন ধারা ৪০জ: আপস ও মধ্যস্থতা
বিদ্যমান ঘাটতি (Gap)
সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এ মামলা নিষ্পত্তি, বিচার ও আপিলের বিধান থাকলেও TFGBV-সংক্রান্ত অপরাধে আপস (compounding) বা মধ্যস্থতা (mediation) কোন পরিস্থিতিতে গ্রহণযোগ্য হবে এবং কোন পরিস্থিতিতে হবে না, সে বিষয়ে স্পষ্ট বিধান নেই। TFGBV মামলায় সামাজিক, পারিবারিক বা অর্থনৈতিক চাপের কারণে ভুক্তভোগীকে অনিচ্ছাকৃত আপস বা মধ্যস্থতায় বাধ্য করা হতে পারে। বিশেষত সেক্সটরশন, শিশু-সম্পর্কিত অপরাধ, পুনঃপুন সংঘটিত অনলাইন সহিংসতা এবং গুরুতর নিরাপত্তা-হুমকির ক্ষেত্রে আপসের সুযোগ বিচারপ্রাপ্তিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
সুপারিশ (Recommendation)
আইনে একটি নতুন ধারা ৪০জ (আপস ও মধ্যস্থতা) সংযোজন করা যেতে পারে:
সেক্সটরশন, শিশু-সম্পর্কিত TFGBV, পুনঃপুন সংঘটিত TFGBV, গুরুতর অনলাইন হুমকি, ডক্সিং-এর ফলে শারীরিক নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি, সমন্বিত অনলাইন আক্রমণ এবং আদালত কর্তৃক গুরুতর বিবেচিত অন্য কোনো TFGBV অপরাধ আপসযোগ্য হইবে না।
অন্য ক্ষেত্রে আদালতের তত্ত্বাবধানে মধ্যস্থতা করা যাইতে পারিবে; তবে ভুক্তভোগীর স্বাধীন, অবহিত, স্বেচ্ছায় প্রদত্ত এবং চাপমুক্ত সম্মতি ব্যতিরেকে কোনো মধ্যস্থতা বা আপস কার্যকর হইবে না।
মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ায় ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করিতে হইবে এবং যে কোনো সময় ভুক্তভোগী তাহার সম্মতি প্রত্যাহার করিতে পারিবেন।
২৬. নতুন ধারা ৪০ঝ: Platform-এর দায়িত্ব
বিদ্যমান ঘাটতি (Gap)
TFGBV-সংক্রান্ত কনটেন্ট রিপোর্টিং, জরুরি তথ্য সংরক্ষণ (Preservation), ভুক্তভোগী সহায়তা, পুনরাবৃত্ত অপরাধীর (Repeat Offender) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্বচ্ছতা প্রতিবেদন (Transparency Report) প্রকাশের বিষয়ে প্ল্যাটফর্মগুলোর বাধ্যবাধকতা অস্পষ্ট।
সুপারিশ (Recommendation)
আইনে একটি নতুন ধারা ৪০ঝ (Platform-এর দায়িত্ব) সংযোজন করা যেতে পারে—
- প্রত্যেক Platform, Intermediary অথবা Online Service Provider TFGBV-সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণের জন্য সহজপ্রাপ্য, নিরাপদ ও কার্যকর Reporting Mechanism স্থাপন করবে।
- প্রত্যেক Platform একটি নির্ধারিত Contact Point বা Grievance Officer নিয়োগ করবে, যার মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ ও ব্যবহারকারীরা জরুরি যোগাযোগ করতে পারবেন।
- Platform কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রাপ্ত Preservation Request যথাসম্ভব দ্রুত কার্যকর করবে এবং আইনানুগ সময় পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট তথ্য সংরক্ষণ করবে।
- Platform প্রত্যেক অভিযোগের ক্ষেত্রে Reasoned Response প্রদান করবে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে কনটেন্ট অপসারণ, সীমিতকরণ বা অন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
- পুনঃপুন TFGBV সংঘটনকারী ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে উপযুক্ত ও আনুপাতিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
- Platform প্রতিবছর একটি Anonymised Transparency Report প্রকাশ করবে, যেখানে TFGBV-সংক্রান্ত অভিযোগ, গৃহীত ব্যবস্থা, Preservation Request এবং Response Statistics অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
- তবে এই ধারার কোনো কিছুই Platform-কে সকল ব্যবহারকারীর যোগাযোগ, বার্তা বা কার্যক্রম সাধারণভাবে ও নির্বিচারে পর্যবেক্ষণ করার বাধ্যবাধকতা আরোপ করবে না।
২৭. নতুন ধারা: স্বচ্ছতা প্রতিবেদন (Transparency Reporting)
বিদ্যমান ঘাটতি (Gap)
প্ল্যাটফর্মগুলো TFGBV-সংক্রান্ত অভিযোগের সংখ্যা, প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা, কনটেন্ট অপসারণের হার বা প্রতিক্রিয়ার সময় সম্পর্কে জনসাধারণের নিকট তথ্য প্রকাশে বাধ্য নয়। ফলে জবাবদিহি, নীতি মূল্যায়ন এবং প্ল্যাটফর্মের কার্যকারিতা পরিমাপ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
সুপারিশ (Recommendation)
আইনে একটি নতুন “স্বচ্ছতা প্রতিবেদন (Transparency Reporting)” ধারা সংযোজন করা যেতে পারে—
প্রত্যেক বৃহৎ ডিজিটাল Platform, Intermediary বা Online Service Provider প্রতিবছর অন্তত একবার একটি Anonymised Transparency Report প্রকাশ করবে।
উক্ত প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত থাকবে:
- TFGBV-সংক্রান্ত প্রাপ্ত অভিযোগের সংখ্যা;
- অভিযোগের ধরন অনুযায়ী শ্রেণিবিন্যাস;
- কনটেন্ট অপসারণ, সীমিতকরণ বা ব্লককরণের সংখ্যা;
- Preservation Request-এর সংখ্যা ও নিষ্পত্তির হার;
- Response Time-এর পরিসংখ্যান;
- Repeat Offender-এর বিরুদ্ধে গৃহীত ব্যবস্থার তথ্য;
- আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অনুরোধের সংখ্যা ও প্রতিক্রিয়া;
- আপিল বা পুনর্বিবেচনার ফলাফল।
প্রতিবেদন এমনভাবে প্রকাশ করতে হবে যাতে কোনো ব্যক্তি বা ভুক্তভোগীকে শনাক্ত করা না যায় এবং তা তথ্য সুরক্ষা ও গোপনীয়তার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
২৮. ধারা: তথ্য, উপাত্ত সংগ্রহ ও জবাবদিহি (Data Collection and Accountability)
বিদ্যমান ঘাটতি (Gap)
বর্তমান আইনে TFGBV-সংক্রান্ত তথ্য পৃথকভাবে সংগ্রহ বা প্রকাশের বাধ্যবাধকতা না থাকায়:
- TFGBV-এর প্রকৃত মাত্রা নির্ধারণ করা কঠিন;
- কোন ধরনের ডিজিটাল সহিংসতা বেশি ঘটছে তা চিহ্নিত করা যায় না;
- রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানসমূহের জবাবদিহি দুর্বল থাকে।
সুপারিশ (Recommendation)
আইনে একটি নতুন ধারা ৩১: তথ্য, উপাত্ত সংগ্রহ ও জবাবদিহি সংযোজন করা যেতে পারে:
সরকার, আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ, তদন্তকারী সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহ প্রযুক্তি-সহায়ক জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা (TFGBV) সংক্রান্ত অভিযোগ, তদন্ত, বিচার, প্রতিকার এবং ফলাফল বিষয়ে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ করবে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রতিবছর একটি জাতীয় TFGBV প্রতিবেদন প্রকাশ করবে, যেখানে অন্তর্ভুক্ত থাকবে:
- অভিযোগের সংখ্যা ও ধরন;
- তদন্ত ও মামলা নিষ্পত্তির হার;
- কনটেন্ট অপসারণ ও প্রতিক্রিয়ার সময়;
- প্রদত্ত সুরক্ষা আদেশ, ক্ষতিপূরণ ও প্রতিকার;
- আপিল ও পুনর্বিবেচনার ফলাফল;
- পুনরাবৃত্ত অপরাধের তথ্য;
- বয়স, লিঙ্গ, প্রতিবন্ধিতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বৈশিষ্ট্যভিত্তিক পরিচয়বিহীন (disaggregated) পরিসংখ্যান।
এ ধারার অধীনে সংগৃহীত ও প্রকাশিত সকল তথ্য Anonymised হবে এবং কোনো তথ্য এমনভাবে প্রকাশ করা যাবে না, যাতে ভুক্তভোগী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। সরকার এই তথ্য ব্যবহার করে TFGBV প্রতিরোধ, নীতি-সংস্কার, আইনি সুরক্ষা জোরদারকরণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করবে।
কারণ বাংলাদেশ আমার কারণ বাংলাদেশ আমার